কানপুরে নির্মীয়মাণ ভবনের দেয়াল ভেঙে মৃত্যু হল মালদার তিন আদিবাসী নির্মাণ শ্রমিকের ।

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা,    উত্তরপ্রদেশের কানপুরে  কাজ করতে গিয়ে নির্মীয়মাণ একটি ভবনের দেয়াল ভেঙে মৃত্যু হল মালদার তিন নির্মাণ শ্রমিকের । গত বৃহস্পতিবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশে।  এরপর শনিবার গভীর রাতে মালদার গাজোল ও পুরাতন মালদা থানা এলাকায় পৃথক ভাবে ওই তিন শ্রমিকের কফিনবন্দি মৃতদেহ এসে পৌঁছায়। মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা ।  মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কর্তারা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , মৃতদের নাম রবিন মুর্মু (২৬), মনি মুর্মু (৩৯)।  এদের বাড়ি গাজোল থানার গাজোল ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সোনাকান্দর গ্রামে।  অপর জনের নাম লাল হেমরম (২৫) । তার বাড়ি পুরাতন মালদা থানার আটমাইল এলাকায় । গত কুড়ি দিন আগে মালদা থেকে বেশ কিছু শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ যায়। কানপুরে একটি এলাকায় আধা-সেনাবাহিনীর জন্য নির্মীয়মাণ কোয়ার্টারের কাজ করতে গিয়েই দেওয়াল ভেঙে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ওই নির্মীয়মান ভবনের পাঁচতলায় বাশের মাচান করে কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা । তখনই একটি দেওয়াল হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। তারা ওপর থেকে নিচে পড়ে যায় ।তাতেই মৃত্যু হয় পাঁচ জনের। জখম হন ১০ জন।  মৃতদের মধ্যে তিনজন মালদা জেলার। বাকি দুইজন রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর এলাকার।এদিকে মালদার শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর তাদের গ্রামে এসে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শোকগ্রস্ত পরিবারগুলি সঙ্গে দেখা করেন। মৃত মনি মুর্মুর আত্মীয় শ্যামলা হেমরম,  তালা কিস্কুদের বক্তব্য,  এলাকায় কাজ না থাকার ফলে স্থানীয় শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে পরিবারের লোকেরা উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিলেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে নির্মীয়মাণ ভবনের দেওয়াল ভেঙে দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং মৃত্যু হয়। এই ঘটনা জানার পর ওই শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থা কোনও সাহায্য করে নি। এমনকি উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা মিলে নি। নিজেদের গাঁটের টাকা খরচ করেই মৃতদেহ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।মালদা জেলা পরিষদের গাজোল এলাকার সদস্য সাগরিকা সরকার জানিয়েছেন,  ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক । তবে মৃত শ্রমিকদের দেহ তাদের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যাপারে জেলা পরিষদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হয়েছে । ওই পরিবারগুলিকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।গাজোল ও পুরাতন মালদার বিধায়ক যথাক্রমে দিপালী বিশ্বাস এবং অর্জুন হালদার জানিয়েছেন,  শনিবার শ্রমিকদের মৃতদেহ গ্রামে ফিরেছে।  ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি । প্রশাসনিক স্তরে যাতে মৃত শ্রমিকদের সরকারি সাহায্য মিলে সে ব্যাপারেও কথা বলা হচ্ছে।