আজ অষ্টমী, কুমারী পুজো দেখতে বেলুড় মঠে অগণিত মানুষ ভিড়

বেলুড় মঠে কুমারী পুজো
বেলুড় মঠে কুমারী পুজো

আজবাংলা বাঙালির বাঁধ ভাঙা আবেগ আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে দেবীপক্ষের সঙ্গে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে বহু আগেই ৷ দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন অষ্টমী । সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে মানুষের ভিড় ৷ অষ্টমীতে হয় কুমারী পুজো। প্রথা মেনে বেলুড় মঠে অষ্টমীর দিন কুমারী পুজো হয়। কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পুজো করাই রীতি। বেলুড় মঠের পাশাপাশি বনেদি বাড়িতেও কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, মা কালীর হাতে কলাসুর বধের প্রতীকী হল কুমারী পুজো ৷ কথিত রয়েছে, কলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নিয়েছিল ৷ দেবতারা মা কালীর কাছে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন৷ তাদের আর্তি শুনে মা কালী আবার জন্ম নেন শিশুকন্যা রূপে এবং কলাসুর বধ করেন।সারদা মায়ের উপস্থিতিতে স্বামী বিবেকানন্দ নিজে কুমারী কন্যাকে পুজো করেছিলেন। ১৯০১ সালে বেলুড়ে যেদিন কুমারী পুজো হয়েছিল তখন ন’জন কুমারীকে একসঙ্গে পুজো করা হয়েছিল।সকাল থেকে বেলুড় মঠে ভক্ত সমাগম ৷

আচার ও প্রথা মেনেই বেলুড় মঠের কুমারী পুজোর প্রস্তুতি চলছে ৷ এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল কুমারীকে পুজো করার সময় দেখা হয় না তার ধর্ম, জাত৷ ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনও মেয়েই কুমারী হতে পারে৷ এমনকী, বারবণিতার সন্তানও কুমারী রূপে পূজিতা হতে পারে ৷ বয়স অনুযায়ী কুমারীদের বিভিন্ন নামেও অভিহিত করা হয়। এক বছরের মেয়ে ‘সন্ধ্যা’, সাত বছরের মেয়ে ‘মালিনী’, বারো বছরের কন্যা ‘ভৈরবী’ এবং ষোলে বছরের মেয়েক ‘অম্বিকা’ নামে ডাকা হয়।

সপ্তমীতে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি বাধা দিলেও বাঙালিকে রোখা যায়নি। মহাষ্টমীর সকালে রোদের দেখা মিলতেই ফুল মুডে জনতা। রাতের পর সকালেও অবিরাম জনস্রোত মেগা পুজো গুলোয়। প্রতিমার সম্মুখে চলছে পুজো প্রস্তুতি আর মণ্ডপে দর্শকের ঢল। বৃষ্টি আসতে পারে, এমন পূর্বাভাসে সাতসকালেই বেরিয়ে পড়েছেন অনেকে। সব মিলিয়ে মহাষ্টমীর প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে মুখিয়ে কলকাতা থেকে জেলা। পুজো দেখতে এদিন সকাল থেকে অগণিত মানুষ ভিড় করেছিলেন। শুধু হাওড়া কিংবা কলকাতা কিংবা পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারাই নন, দূর দূরান্ত থেকে এদিনের অনুষ্ঠানের যোগ দিয়েছিলেন বহু মানুষ।হাওয়া অফিস বলছে, আজ, অষ্টমীতেও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!