সংখ্যালঘু হিন্দু উপর নির্যাতন বেড়েই চলছে বাংলাদেশে।হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক  আজবাংলা   বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা ‘বেড়ে চললেও’ তাদের নিরাপত্তায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কোনো ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন বেড়েই চলছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা ভূমিদস্যুদের হাতে নিরঞ্জন পন্ডিত, আনোয়ারা কলেজের পশ্চিমে শীতলা মন্দিরে গরুর রক্তসহ উচ্চিষ্ট, সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণ, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ চললেও বাংলাদেশে ভুক্তভোগীরা কোন সঠিক বিচার পাচ্ছে না। নীরবে নির্যাতিত হয়ে দেশত্যাগের পথ বেছে নিচ্ছেন।আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের কাদাকাটি গ্রামের মৃত নিয়ামত আলী সরদারের ছেলে মহব্বত আলী সরদারের অত্যাচারে দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে গ্রামের বহু সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। নামমাত্র দামে তাদের জমি লিখে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, ঘেরা-বেড়া কেটে দেওয়া, রাতের আধারে ঘরের চালে ইট-পাটকেল মারা, মিথ্যে মামলায় হয়রানিসহ তাদের নানাবিধ কৌশল ফলপ্রসূ না হলে সর্বশেষ ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছেবহু সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। পরিবার গুলোর সদস্যের মৃত দেহের শেষকৃর্ত সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত স্থান শ্মশানের জায়গা টুকুও দখল করে বিল্ডিং করেছেন মহব্বত আলী। বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবার গুলোর একাধিক সদস্যকে হয়রানি করেছে সে। সর্ব শেষ শুক্রবার রাতে তাদের ঘরে আগুন দিয়েছে যাতে তারা ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার গুলি। পুলিশকে জানিয়ে কোন কাজ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ ।  হিন্দু মহাজোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক রিপন দে বলেন, আমাদের উৎখাতে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। সরকার সব বিষয় জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মনে রাখতে হবে হিন্দু না থাকলে বাংলাদেশও থাকবে না, আমাদের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। ‘ঢাকা শহর সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা সারা বাংলাদেশের অবস্থা খুবই খারাপ’ বলে সংবাদ সম্মেলনে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন হিন্দু মহাজোট ঢাকা অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট শুভাস সাহা। তিনি বলেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে মহিলারা শাখা-সিঁদুর পরে আর বাসার বাইরে বের হচ্ছে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলা-তরুণীরা এখন বোরকা পরে ঘুরে বেড়ায়।আওয়ামী লীগ সব সময় হিন্দুদের ভোট পায় দাবি করে চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র অচিন্ত্য মন্ডল বলেন, বর্তমান সরকার তাদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। এখন আর পিছে ফেরার সময় নেই, প্রতিরোধ গড়ে তুলে টিকে থাকতে হবে।হিন্দু সংস্কার সমিতি সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সেন বলেন, দুর্বিষহ দিন অতিবাহিত করছি। হিন্দু নিধন করে বিতাড়িত করতে চাচ্ছে। রাষ্ট্র সহায়তা দিলে এই রকম হতো না। নিরূপায় হয়ে এখন দেশ থেকে চলে যেতে চাচ্ছে অনেকে। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সভাপতি উত্তম দাস বলেন, মা-মেয়েদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আর কীভাবে অত্যাচারিত হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে? এতে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য কোনো ভূমিকা রাখেননি বা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেনি। হিন্দুদের অত্যাচার-নির্যাতন করে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে অভিযোগ করে  ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন হিন্দু মহাজোট নেতারা।