নদিয়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে খুন হল তৃণমূল কর্মী

আজবাংলা  শান্তিপুর   ভর দুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় কুপিয়ে খুন করা হল এক যুবককে। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরের ব্রহ্মাতলায়। শান্তনু মাহাতো (৩২) নামে ওই যুবকের বাড়ি শান্তিপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রক্ষ্মতলা লেনে। শান্তনু দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বলি হয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। ইতিমধ্যেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃতের পরিবারের দাবি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই খুন করা হয়েছে ওই তৃণমূল কর্মীকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা

সাড়ে বারোটা নাগাদ বাড়ির সামনে গলিতে বসেছিলেন শান্তনু। এ সময় প্রায় সাত আটজন যুবক সেখানে চড়াও হয়। প্রথমেই শূন্যে এক রাউন্ড গুলি চালায় তারা। তারপরেই শান্তনুকে তাড়া করে। গলির ভিতর তাঁকে ধরে ফেলে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। এরপর তাকে সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে শান্তনুকে শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃতের পরিবারের দাবি, তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন শান্তনু। বরাবরই চেয়ারম্যানের গোষ্ঠীর সমর্থক ছিলেন তিনি। অভিযোগ, বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই শান্তনুকে তাঁর দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।

কিন্তু তাতে রাজি হননি শান্তনু। সেই কারণেই খুনের ছক বলেই দাবি মৃতের স্ত্রী ঝুম্পার। এবিষয়ে বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য জানান, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই। ব্যক্তিগত কারণে খুন হয়ে থাকতে পারে বলেই দাবি তাঁর। এমনকী ওই যুবক যে তৃণমূলের কর্মী তাও মানতে নারাজ বিধায়ক। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর দলে কোনও দুষ্কৃতীর জায়গা হয় না।এদিকে শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান অজয় দে বলেন, “শান্তনু অবশ্যই আমাদের দলের সমর্থক। যে ভাবে দিনের আলোয় রাস্তার উপর তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হল, তার বিচার চাইছেন শান্তিপুরের মানুষ। পুলিশ এর তদন্ত করুক।” চেয়ারম্যান নিহতকে দলের সমর্থক বলে দাবি করলেও তৃণমূলের কর্মী তাও মানতে নারাজ শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!