ঠান্ডার আমেজ নিতে পুজো ভ্রমণে চলুন লামাহাটা

ঠান্ডার আমেজ নিতে  পুজো ভ্রমণে চলুন লামাহাটা

  প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে পুজোয় ঘুরে আসতে পারেন দার্জিলিং এর চাকচিক্য থেকে অনেক দূরে শেরপাদের গ্রাম লামাহাটা।  রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে এখন মোটামুটি পরিচিত ডেস্টিনেশন লামাহাটা। তবে খুব যে ভিড় হয় সেটা নয়। নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে লামাহাটার উচ্চতা ৫ হাজার ৭০০ ফুট। প্রায় দার্জিলিংয়ের সমান। ভৌগোলিক অবস্থান দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মাঝামাঝি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। জনবসতি খুব কম।

পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার কথা উঠলে কম-বেশি প্রত্যেকে দার্জিলিং অথবা সিকিমের কথা ভেবে বসে পরিকল্পনা ছকে নেন। সেই কোলাহল। ভিড়ে ঠাসাঠাসি পরিবেশ। আপনি না হয় চিরাচরিত সেই পথে পা না বাড়িয়ে ছক ভাঙার গল্পে মজলেন। শিলিগুড়ি থেকে ভাড়া গাড়িতে অথবা শেয়ার জিপে ঘুম স্টেশন পর্যন্ত না এগিয়ে জো বাংলোয় নেমে পড়ুন। আড়াই ঘন্টার পথ। ওখান থেকে আবার ভাড়া গাড়ি অথবা শেয়ার জিপে চলুন। সারি দিয়ে পেয়ে যাবেন পাইন জঙ্গল।

সেখানেই লুকিয়ে ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ লামাহাটা। সবুজে ভরা অন্য ভুবন। যেখানে প্রকৃতি কথা বলে। প্রতি মূহূর্তে রং বদলায়। কোলাহলমুক্ত হিমেল পরিবেশ আপনার মনের গভীরে সুপ্ত হয়ে থাকা প্রেমের আবেগ সতেজ করে তুলবেই। মন চাইবে প্রেয়সীর হাতে হাত রেখে পাহাড়ের গায়ে ওড়নার মতো জড়িয়ে থাকা চা বাগানে পা বাড়াতে। চলার পথে রকমারি পাহাড়ি ফুল পেয়ে যাবেন। কানে আসবে নাম না জানা হরেক রকম পাখির কলতান। সবদিক থেকেই প্রকৃতি নিজেকে উজার করেছে লামাহাটায়।  

লামাহাটা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বসতি এলাকা। রয়েছে মনাস্ট্রি। ধর্মীয় রীতি মেনে নানা রংয়ের পতাকায় সাজানো পথঘাট। হিমেল হাওয়ায় দিনরাত পত-পত করে উড়ছে সেসব। দার্জিলিং পাহাড়ের অন্য কোথাও এত পাইন গাছ পাবেন না। রয়েছে ধূপি গাছও। সেখানেই ডানা ঝাপটায় হরেক রকম পাখি। পাহাড়ি গাছের চিকন পাতা চুইয়ে পড়া হিমের টুপটাপ শব্দ, দিনভর রোদ কুয়াশার লুকোচুরি বন্ধ মন মনের দুয়ার খুলে দেবে।

ল্যান্ডস্কেপের ফোটগ্রাফির নেশা থাকলে তো কথাই নেই। লামাহাটার যেদিকে তাকাবেন সবই ফ্রেমবন্দি করতে মন চাইবে। পাশেই তাগদা গ্রাম। সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন। চা বাগান ঘেরা পাহাড়ি পথের নৈসর্গিক দৃশ্যপট ভাল লাগবে। সেখান থেকে দেখে নিতে ভুলবেন না কঞ্চনজঙ্ঘার হৃদয় ছোঁয়া দৃশ্য। তবে লামাহাটাকে জড়িয়ে প্রাণ ভরে প্রকৃতির সুবাস নিতে একজন গাইড রাখুন সঙ্গে।

ওঁরা আপনাকে খুব কম সময়ে নতুন জায়গা দেখাতে সাহায্য করবে। কম সময়ে গোটা এলাকা ঘুরে দেখার জন্য গাইডের সঙ্গে কথা বলে রুট ম্যাপ ঠিক করে নিন। এখানে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগের। সম্প্রতি এখানে কয়েকটি হোম-স্টে গড়ে উঠেছে। তাই থাকার সমস্যা নেই। আগে তাঁবুতে রাত কাটাতে হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে রিসর্ট গড়ে তোলার কথাও ভাবছে রাজ্য সরকার। দার্জিলিং থেকে লামাহাটার দূরত্ব খুব বেশি নয়, মাত্র ২৫ কিলোমিটার। যদি মনে করেন শৈলশহর ঘুরে দেখার পর লামাহাটায় রাত কাটাবেন, সেটাও করতে পারেন। এই পথে যানবাহনের তেমন সমস্যাও নেই।