ছাত্রীদের শীলতাহানি করায় তুলকালাম মালদার জে এম সেঠিয়া হিন্দি বিদ্যালয়ে।

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা,   দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাংশ ছাত্রীদের শীলতাহানি, অশালীন আচরণের অভিযোগে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় বলে অভিযোগ। বুধবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদা শহরের দক্ষিণ বালুচর এলাকার হিন্দি হাইস্কুলে। ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের বিক্ষোভের হাত থেকে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে বাঁচাতে ঘরবন্দী করে রাখা হয় ।এমনকি প্রধান শিক্ষককে ঘেরাও করে চলে ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ।বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বালুচর এলাকায় । পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু চৌধুরি ঘটনাস্থলে আসেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর স্কুলের দুই শিক্ষককে আটক করে নিয়ে যায় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ । এরপরই ক্ষিপ্ত ছাত্র-ছাত্রী , অভিভাবকেরা শান্ত হন। এবং তাদের বিক্ষোভ ঘেরাও তুলে নেন।আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ,  স্কুলের দুই শিক্ষক রাজেশ সাহা এবং স্নেহাশীষ সিং প্রতিদিনই পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর বিভিন্ন  ছাত্রীদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে । একা ছাত্রীদের ডেকে শীলতাহানিও করে। এরকম ঘটনা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছিল। ওই দুই শিক্ষকের হুমকির ভয় নির্যাতিতা ছাত্রীরা কিছু বলার সাহস পাচ্ছিলেন না । প্রায় দিনই ফাঁকা অফিস ঘর অথবা ক্লাস ছুটির পরে অনেক ছাত্রীদেরকে ডেকে পাঠিয়ে অশালীন আচরণ করতেন ওই দুই শিক্ষক।বিক্ষোভকারী ছাত্র ছাত্রীদের বক্তব্য,  এদিন পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ওই দুই শিক্ষক দুর্ব্যবহার করেন গায়ে হাত দেয় । আর তার পরে ওই ছাত্রী কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।  বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে।এদিকে এই ঘটনার পর ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশ অভিভাবকরাই ছুটে আসেন। তারাও প্রধান শিক্ষকের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন । এমনকি কয়েকটি ক্লাস রুমের টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের স্কুল থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইট , পাথর ছুড়ে বলে অভিযোগ। আর তখনই বাধ্য হয়ে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়।স্থানীয় তৃণমূল দলের কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী জানিয়েছেন,  ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি । সেটি জানার পরই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্ত ঘটনা শোনার পর ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সাথে কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের কথা মতোই বিক্ষোভ এবং ঘেরাও কর্মসূচি  তুলে নেন ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকেরা।যদিও এব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার রাম কোন মন্তব্য করেন নি।ডিএসপি বিপুল মজুমদার জানিয়েছেন,  দুই শিক্ষককে নিয়ে হিন্দী হাই স্কুলের একাংশ ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন । তাদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে । তবে পুলিশ কোনও লাঠিচার্জ করে নি। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোটাই ভিত্তিহীন।