এলপিজি কেলেঙ্কারিতে রাজ্য বিজেপির দুই নেতা, গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা রঞ্জিত মজুমদার।

Sainathan Basu and Raju Bandyopadhyay
সায়ন্তন বসু আর রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়

আজবাংলা বিধাননগরের প্রাক্তন বিজেপি নেতা অশোক সরকার জোড়াসাঁকো থানায় অগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে অভিযোগ জানান, এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বা রান্নার গ্যাসের ডিলারশিপ দেওয়া নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে এ রাজ্যে, এবং তাতে জড়িত রয়েছেন রাজ্য বিজেপির অনেক নেতা। অশোক সরকার তাঁর লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, এই গোটা প্রক্রিয়াটা সম্পর্কেই অবহিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের (সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন) মতো রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারাও।  বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য পেট্রলিয়াম মন্ত্রক থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার অনেক আগেই, এ রাজ্যের এ রাজ্যের অনেক বিজেপি নেতা জানতে পারেন, কোন কোন জায়গায় ডিলারশিপ দেওয়া হবে। অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার অনেক আগেই রণজিৎ মজুমদার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিজেপি সভাপতিকে ইমেল করে জানিয়ে দিতেন, ডিলারশিপ নিতে ইচ্ছুক বিজেপি কর্মী সমর্থকদের নাম পাঠাতে। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল শুভঙ্কর সিনহা বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমার যে নথি পেয়েছি, তার ভিত্তিতে আমরা রণজিৎ মজুমদারকে একাধিকবার জেরা করেছি। রণজিৎবাবুর বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। এই ধরনের আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পাতায় লাইক করুন

 

 

প্রাথমিক ভাবে গোটা দুর্নীতিতে তাঁর সরাসরি যোগের প্রমাণ মিলেছে। এর পরেই তাঁকে আমরা গ্রেফতার করেছি। তদন্তকারীদের দাবি, নথিপত্র খতিয়ে দেখে এবং রণজিৎকে জেরা করে রাজ্য বিজেপির দুই নেতা সায়ন্তন বসু আর রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উঠে এসেছে। অশোক সরকার তাঁর অভিযোগে রাজ্য বিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা ছাড়াও রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের দুই শীর্ষ প্রান্ত-প্রচারকের নামও করেছেন। অভিযোগ, এই দুই প্রচারকও এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। জোড়াসাঁকো থানায় অভিযোগ জানানোর আগে অশোক সরকার ৩০ জুলাই বিধাননগর পূর্ব থানাতেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অশোকবাবু তাঁর অভিযোগপত্রের সঙ্গে রণজিৎ মজুমদারের সঙ্গে তাঁর দলের জেলা সভাপতিদের ই-মেলে যোগাযোগের নথি-সহ ২৩৫ জনের তালিকা দিয়েছিলেন তদন্তকারীদের কাছে।