দুটি শিশু একসাথে জোড়া অবস্থায় জন্ম নিল মালদা শহরের বেসরকারি নার্সিংহোমে

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা, তড়িঘড়ি নার্সিংহোমের প্রচেষ্টায় সিজার করে প্রাণ বাঁচলো এক প্রসূতির। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কুমেদপুর এলাকার বাসিন্দা জাহির উদ্দিন শেখের স্ত্রী রোজিনা বিবি প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হন মালদা শহরের যদুপুর গাবগাছি এলাকায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে নার্সিংহোমের প্রচেষ্টায় তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করা হয় ওই প্রসূতির। অস্ত্রপচারের পর জমজ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সেই সন্তানকে দেখে পরিবারের লোকেরা দুঃখে কেঁদে ওঠেন। কারণ দুটি সন্তান একসাথে জোড়া অবস্থায় জন্ম নেয়। দুটি মাথা ৪টি পা, ৪টি হাত নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু দুটি কিন্তু তাদের শরীর জোরা অবস্থায় জন্ম হয়। চিকিৎসক ডাঃ আর চ্যাটার্জীর নেতৃত্বে অস্ত্রোপচার হয়। শিশুর জন্ম হয় কিন্তু তাদের অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক। নাসিংহোম এর মালিক আনারুল হক জানিয়েছেন,রোজিনা বিবি প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে তাদের নার্সিংহোমে ভর্তি হয়। প্রসূতির পরিবারের লোক জানত না যে দুটি সন্তান জোড়া অবস্থায় রয়েছে। তারা অবশ্য জানিয়েছেন চিকিৎসক দ্বারা তারা সমস্ত পরীক্ষায় করেছিলেন। তারা জানতেন যমজ সন্তান রয়েছে। কিন্তু এত খারাপ অবস্থায় রয়েছে তা তারা টেরও পাননি। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থা দেখে নার্সিংহোমের প্রচেষ্টায় অস্ত্রোপচার শুরু হয়। দীর্ঘক্ষন অস্ত্রোপচারের পর জমজ সন্তানের জন্ম হয়। স্বভাবতই সন্তান জন্ম নিলে পরিবারের সদস্যদের চোখেমুখে হাসি ফুটে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে একেবারে উল্টো। সন্তানদের পরিস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকেরা। আনারুল বাবু জানিয়েছেন, দুটি সন্তানের অবস্থা সঙ্কটজনক। তবে সংকটমুক্ত হয়েছেন প্রসূতি।প্রসূতির এক আত্মীয় মোহাম্মদ জরিপ জানিয়েছেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখে প্রসূতিকে প্রথম স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয় এপোলো নার্সিং হোমে। তাদের চেষ্টায় অস্ত্রোপচার করে দুটি শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু দুটি শিশু একসাথে জোড়া অবস্থায় জন্ম নেয়। চিকিৎসককে দেখিও তারা বুঝতে পারেননি যমজ সন্তান একসাথে রয়েছে।