একশো বছরের ইতিহাসে এই প্রথম গোপনে’বাইবেল অধ্যয়ন চক্র হোয়াইট হাউসে

Vice President Mike Pence and others praying at the White House
হোয়াইট হাউসে প্রার্থনারত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং অন্যান্যরা।
Vice President Mike Pence and others praying at the White House
হোয়াইট হাউসে প্রার্থনারত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং অন্যান্যরা।

আজবাংলা আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সম্মেলন কক্ষে প্রতি বুধবার বসে এই বাইবেল অধ্যয়ন চক্রের গোপন বৈঠক। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী কিছু মানুষ এর সদস্য। সেকুলার মিডিয়া তাদেরকে যেভাবেই দেখুক, র‍্যালফ ড্রলিংগার হোয়াইট হাউসের এই বাইবেল স্টাডি গ্রুপ নিয়ে বেশ উৎসাহী। “জেফ সেশন্স, টম প্রাইস  গত একশো বছরের মধ্যে হোয়াইট হাউসে এটাই প্রথম কোন বাইবেল স্টাডি গ্রুপ।  প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশের আমলেও একটি বাইবেল স্টাডি গ্রুপ ছিল। কিন্তু সেটি ছিল তার প্রশাসনের নীচের স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য। র‍্যালফ ড্রলিংগার বেশ গর্বভরেই বললেন, আমাদের সেনেট এবং হাউস বাইবেল স্টাডি গ্রুপের লোকজন থেকেই ট্রাম্প তার কেবিনেটে লোক নিতে শুরু করেন। এজন্যে তিনি অবশ্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে। কে এই র‍্যালফ ড্রলিংগার ? সাত ফুট দীর্ঘ এই ব্যক্তি আগে ছিলেন পেশাদার বাস্কেটবল খেলোয়াড়, বেড়ে উঠেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে। ছোটবেলায় তিনি মোটেই ধর্মপ্রাণ ছিলেন না। তার নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাত্র এক ডজন বার হয়তো চার্চে গেছেন ছোটবেলায়। স্কুলের শেষ ক্লাসে একদিন কেউ একজন তাকে বাইবেল ক্লাসে আমন্ত্রণ জানালেন। সেখানে গিয়ে জীবন পাল্টে গেল র‍্যালফ ড্রলিংগারের। বাড়ি গিয়ে তিনি ভালো করে বাইবেল পড়া শুরু করলেন। বাস্কেটবল ছেড়ে ধর্ম-কর্মে মন দিলেন। বাস্কেটবল খেলোয়াড় থেকে তিনি হয়ে গেলেন ধর্মযাজক। র‍্যালফ ড্রলিংগার যে বাইবেলের ক্লাস চালান, তা বেশ কঠিন। বাইবেলের প্রতিটি লাইন ধরে তার এই স্টাডি গ্রুপে আলোচনা হয়। তার এই বাইবেল অধ্যয়ন কর্মসূচী এতটাই সফল যে এখন ৪৩ টি অঙ্গরাজ্যে এর কার্যক্রম চলে। প্রতিটি বাইবেল স্টাডি সার্কেলের প্রধান হচ্ছেন একজন স্থানীয় যাজক। এর কোনটিরই নেতৃত্বে নেই কোন নারী। কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে র‍্যালফ ড্রলিংগার দাবি করছেন, রাষ্ট্র, ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্বে কোন বাধা দেয়ার কথা নেই বাইবেলে। তবে বিয়ে এবং চার্চে নারী নেতৃত্ব নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে বাইবেলের বিধান খুব স্পষ্ট। এর মানে এই নয় যে নারী কম গুরুত্বপূর্ণ। র‍্যালফ ড্রলিংগারের বাইবেল অধ্যয়ন চক্র ২০১০ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাদের কার্যক্রম শুরু করলো। তাদের কার্যক্রম এখন বেশ বিস্তৃত। কেবল প্রতিনিধি পরিষদেরই ৫০ জন সদস্য তাদের স্টাডি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। সেনেটে আছে তাদের চার সদস্য। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পেয়েছেন দুজন । নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের এক লেখায় র‍্যালফ ড্রলিংগার এবং তার অনুসারীদের ‘খ্রীষ্টান জাতীয়তাবাদী’ বলে বর্ণনা করেছিল। এর তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। কেন তাদের এ নিয়ে আপত্তি?  “এর মানেটা দাঁড়ায় এমন, আমি যেন গোপনে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছি। আমরা যেন ধর্মরাষ্ট্র কায়েমের চেষ্টায় রত।” কিন্তু মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বাইবেল স্টাডি গ্রুপ তো আসলে তাই, রাষ্ট্র আর ধর্মকে কি এখান এক করে ফেলা হচ্ছে না?র‍্যালফ ড্রলিংগারের যুক্তি হচ্ছে, তিনি রাষ্ট্র আর ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলাদা রাখার পক্ষে, কিন্তু এর প্রভাব আলাদা করার পক্ষে নন।