বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভোটার সংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, চিন্তায় নির্বাচন কমিশন

voters in the border with Bangladesh
নির্বাচন কমিশন
voters in the border with Bangladesh
ভোটার সংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি

আজবাংলা ২০১১ সালের আদমসুমারির সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যোগ করলে ২০১৮-র ১ জানুয়ারি কোচবিহারের দিনহাটা কেন্দ্রের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮০। রাজ্যের জনসংখ্যা-ভোটার গড় অনুপাতের হিসাবে সেখানে ভোটার সংখ্যা হওয়া উচিত ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৫৯৫। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা বলছে, ওই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৬৩১ জন বেশি। জনসংখ্যার নিরিখে ভোটার সংখ্যা যত হওয়ার কথা, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টিতে ভোটার তার চেয়ে অনেক বেশি। গত ১০ জানুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় এমন ছবিই উঠে এসেছে। ঘটনাচক্রে ‘অস্বাভাবিক’ ভোটার সংখ্যার বিধানসভাগুলির অধিকাংশই বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। বাকি ১৩১টি কেন্দ্রেও কম-বেশি এমন ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে চিন্তিত নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে যখন এই তালিকার ভিত্তিতেই পঞ্চায়েত ভোট হবে। কিন্তু কমিশনের কর্তারা একই সঙ্গে এ-ও মানছেন যে, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এই ‘বাড়তি’ ভোটারদের চিহ্নিত করা অসম্ভব। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় জনসংখ্যা-ভোটার সংখ্যার অনুপাত প্রকাশ করতেও তাঁরা নারাজ। স্বাভাবিক নিয়মে ১৮ পেরনোদের পাশাপাশি অনেক বেশি বয়স্কের নামও এ বার প্রথম ‘সরাসরি’ তালিকায় উঠেছে। জানা গিয়েছে, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা, বর্ধমানের কাটোয়া, কালনা মহকুমা ও বীরভূমের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার বেড়েছে ‘অস্বাভাবিক’ হারে। এর মধ্যে বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার সব কেন্দ্রে ‘বাড়তি’ ভোটারের রমরমা। যদিও ব্যারাকপুর মহকুমার কোনও আসনে অস্বাভাবিক ভোটার বৃদ্ধি হয়নি। অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধি মূলত সীমান্ত-ঘেঁষা কেন্দ্রগুলিতেই হয়েছে, তাই এর পিছনে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকের ধারণা।