নবজাগরণে জাগরিত হলো যাঁরা…..

নবজাগরণে জাগরিত হলো যাঁরা.....
নবজাগরণে জাগরিত হলো যাঁরা.....

আজ বাংলা মলয় দে নদীয়া সালটা ছিল ২০১৫, এ রকমই ঠিক এইরকমই এক সময় যখন মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল সবে প্রকাশিত হয়েছে.. একদল তরুণ ছেলে মেয়ে নিয়ে রণ প্রসাদ ভট্টাচার্য শুরু করেছিলেন পথ চলা। সংস্থার নাম নবজাগরণ। পিছিয়ে পড়া কিছু মানুষ দের উদ্দেশ্যে খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা ছিল মূল উদ্দেশ্য,সাথে পরিবেশ এবং বিনোদনও।
প্রতিটা অনুষ্ঠান বাড়িতেই তারা পৌঁছে যেত বেঁচে যাওয়া খাদ্যের সন্ধানে, তারপর সে গুলোকে নিয়ে রেলস্টেশন হস্পিতাল ইটভাটা সহ নানা দারিদ্র প্রবণ এলাকায়। তারপর সে গুলোকে নিজেসন্তান প্রতিপালনযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন, অথর্ব, রিফিউজিদের খাওয়ানো চলে নিত্যনৈমিত্তিক।প্রায় প্রতিটি পরিবারেই পুরাতন বস্ত্র দিয়ে বাসন কেনার চিরাচরিত এই অভ্যাস বদলাতে সক্ষম হয়েছে সংস্থা। শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখা বাক্সে করুন আবেদন “আপনার অব্যবহৃত পোশাক আরেকজনের লজ্জা নিবারক।”বাসস্থানের কোন ব্যবস্থা আপাতত না করতে পারলেও অদম্য স্পৃহা এবং মানসিক দৃঢ়তা আগামীতে তারা করবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র অনাথ আশ্রম এবং বৃদ্ধাশ্রম।শিক্ষানীয় তারা চিন্তিত ইতিমধ্যে তারা বাগআঁচড়া পেকেপাড়ায় বিনা বেতনে নাচ গান আবৃত্তি নাটক শারীর শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সপ্তাহে একদিন করে আর্থিকভাবে অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের কে নিয়মিত অনুশীলন করার ব্যবস্থা করে।দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে শান্তিপুর থানার মোড়ে বুক ব্যাংক তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র অল্প দামে কেজি দরে বিকিয়ে যাওয়া বই সংগ্রহ করেই। পরবর্তীকালে সেগুলোই ব্যবহৃত হয় আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে। এ বছর ১৫ ০৬ ২০১৯ শান্তিপুর পাবলিক লাইব্রেরী হলে দারিদ্রতা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও যারা কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলেন এমন ৮৫ জন ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধিত করা হলো এক অনুষ্ঠানে।উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ব্যক্তিবর্গ, সংস্থা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাগন, ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক মহাশয় সহ বিশিষ্ট সাংবাদিক গণ।এই অনুষ্ঠানের বিশেষ একটি লক্ষণীয় বিষয় অনুধাবন করলো উপস্থিত সকলে..আমরা প্রায়ই দেখে অভ্যস্ত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তাদের সংবর্ধিত করা হয় কিন্তু নবজাগরণ পরিবার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে অনুভব করেছে, তাদের এই শুভ কর্ম সাফল্য মন্ডিত হয় তাদেরই পারিবারিক সদস্যদের ত্যাগের কারণে। মা বোন সন্তান বা যে কোনো সদস্য যদি একটু কম ভালো থেকে , উৎসবের মুহুর্তে প্রিয়জনকে না পেয়ে , জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রিয় সদস্যকে না পাশে পাওয়ার ফলে
হয়তো এতগুলো মানুষ ভালো থাকতে পেরেছেন।
তাই এই কৃতিত্ব সম্পন্ন তাদের পরিবারের, এমনই ১০ টি পরিবারের হাতে বিশেষ নাগরিক সম্মান তুলে দেন সংস্থার সম্পাদক রন প্রসাদ ভট্টাচার্য।
সংবর্ধনা দেয়া সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি জানান ” আজ তোমরা সংঘটিত হয় যেমন গর্ব বোধ করছো, আগামী প্রজন্ম তোমাদের দিকে তাকিয়ে!
এ পৃথিবীকে দূষণমুক্ত বানাতে হবে তোমাদের আর্ত- পীড়িত- অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে
তোমাদের, তোমাদের মাধ্যমিক বাড়বে নবজাগরণের পরিবার
তবেই নব ভাবে জাগ্রত হবে সমাজ।