পুরাণের বর্ণনায় কলিযুগ শেষ কবে! কোন বিপদের কথা জানাচ্ছে বৈদিক হিসাব

ধ্বংস কি আসন্ন
ধ্বংস কি আসন্ন

আজবাংলা বৈদিক সমাজ কালকে চারটি যুগে ভাগ করে দেখে— সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। ‘ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ’-সহ আরও কয়েকটি পুরাণ এই চার যুগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। বৈদিক সময়-ভাবনা অনুসারে কাল চক্রাকারে আবর্তিত হয়। অর্থাৎ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি পর পর আসে। কলি যুগের পরে আবার সত্য যুগ ফিরে আসে। ‘মহাভারত’ থেকে জানা যায়, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ঘটেছিল দ্বাপর যুগের একেবারে উপান্তে। শ্রীকৃষ্ণের দেহত্যাগের মুহূর্ত থেকেই কলি যুগ শুরু হয়। এবং ‘ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ’ অনুসারে ৫০০০ বছর তা চলবে। বিবিধ হিন্দু শাস্ত্র যুগধর্ম বিষয়ে জানায়। সেই বর্ণনা অনুসারে, কলি যুগে মানুষের নৈতিকতার বিপুল পরিমাণে অবক্ষয় ঘটবে। সব মিলিয়ে ধ্বংসের বেশ কিছু লক্ষণ এই যুগে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখানেই প্রশ্ন জাগে, কলি যুগের পরেই কি প্রলয়? সৃষ্টি কি ধ্বংস হয়ে যাবে? যদি তাই হয়, তা হলে আর কতদিন বাকি সেই যুগান্তের? আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখান, আর্যভট্টের এই হিসাবে কিছু ভুল ছিল। ৩১০২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেষ রাশি ও পাঁচ গ্রহের অবস্থান তাঁর বর্ণনা মতো ছিল না। কিন্তু আর্যভট্টকে তাঁরা খানিকটা ভুল ব্যাখ্যা করেন বলেই মনে করেন ভারতীয় জ্যোতির্বিদরা। আর্যভট্ট তাঁর হিসেবে উল্লিখিত তারিখে এক ‘স্বর্ণযুগ’-এর অবসানের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এই তারিখই যে কলির আরম্ভ, তা নিয়ে তাঁর কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই। বরং তাঁর গ্রন্থের এক জায়গায় আর্যভট্ট লিখেছেন, তিনি কলির ৩৬০০তম বর্ষে গ্রন্থটি রচনা করছেন। আনুমানিক ৫০০ খ্রিস্টাব্দে ‘সূর্যসিদ্ধান্ত’ রচিত হয়। সেই হিসেব মোতাবেকও ৩১০২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ সালটি ফিরে আসে। মনে করা হয়। আর্যভট্ট ওই সালটি অন্য কোনও সূত্র থেকে পেয়েছিলেন, যার উল্লেখ তিনি করেননি।যুগচক্র সংক্রান্ত বিবিধ জটিল হিসেব পার হলে এটা বোঝা যায়, প্রতিটি যুগচক্রে ১২০০০ বছর থাকে। তাহলে এক একটি যুগ ৩০০০ বছর স্থায়ী হয়। সেই হিসেব মানলে দেখা যায়, ১২৬৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শুরু হয়েছিল সত্য যুগ। সেই সঙ্গে ‘মহাভারত’-এর হিসেবকে মেলালে কলিযুগের অন্ত হিসেবে পাওয়া যায় ২০২৫ খ্রিস্টাব্দকে। অর্থাৎ, সেই দিনটি আসতে আর কম-বেশি ৬ বছর দেরি রয়েছে। তা হলে কি ধরে নিতে হবে ৭ বছর পরে প্রলয় আসন্ন? মানব সভ্যতা কি এক বিপর্যয়ের সামনে? পুরাণের বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে, এই যুগান্তে মহাপ্রকৃতিগত পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। পরিবেশ ও প্রকৃতিতে সুদূরমেয়াদী পরিবর্তন ঘটতে শুরু করবে, এমনটাই জানায় প্রাচীন শাস্ত্রসমূহ।ভূগর্ভে টেকটনিক পাতের অবস্থানগত পরিবর্তন, বিশ্ব উষ্ণায়নের ক্রমবৃদ্ধি, বিশ্ব-রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতার ক্রমবৃদ্ধি ইত্যদিই কি সেই যুগান্তের লক্ষণ? ভাবছেন পুরাণবিদ ও দার্শনিকরা। সময় যে কমে আসছে!

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!