বিবাহিত মহিলারা শাঁখা পরেন, কেন ও কবে থেকে এই বিশেষ অলঙ্কারের ব্যবহার দেখে নিন

বিবাহিত মহিলারা শাঁখা পরেন, কেন ও কবে থেকে এই বিশেষ অলঙ্কারের ব্যবহার দেখে নিন

আজবাংলা  প্রত্যেক বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কারের সঙ্গে মিলে মিশে আছে এই শঙ্খ বা শাঁখা শিল্প। শোনা যায়, প্রায় ২,০০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতে শঙ্খশিল্পের উদ্ভব ঘটে। পরে বল্লাল সেনের হাত ধরে দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলাদেশে শাঁখা শিল্পের সূচনা হয়।

প্রত্যেক হিন্দু বিবাহিত নারীদের ভূষণ বা অলঙ্কার বিশেষহল এই শাঁখা। ধর্মীয় রীতিনীতি ও মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে পরে থাকেন বিবাহিত মহিলারা। শাঁখা হল শঙ্খ কেটে তৈরি চুড়ি বা বালা জাতীয় অলঙ্কার। কিন্তু কী করে বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে এই বিশেষ প্রথা চালু হল, জানেন কি?

আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিশেষ ঐতিহাসিক ঘটনা বা বর্ণনা। ব্রিটিশ লেখক জেমস ওয়াইজের লেখা থেকে এক বিশেষ তথ্য জানা যায়। সেখানে বলা হয়, রাজা বল্লাল সেনের সঙ্গে করে দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলাদেশে শাঁখারিরা এসেছিলেন।

অর্থাৎ, প্রায় ৯০০ বছর আগেও শাঁখার প্রচলন ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, বল্লাল সেনের অনেক আগে থেকে (প্রায় ২,০০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতে শঙ্খশিল্পের উদ্ভব ঘটে) দক্ষিণ ভারতে অলঙ্কার হিসাবে শাঁখার প্রচলন ছিল।

তবে তার পিছনে কোনও ধর্মীয় কারণ ছিল কিনা, সেই বিষয়ে কোন কিছু জানা যায়নি। এ তো গেল ব্রিটিশ লেখকের কথা, আমাদের হিন্দু পুরান অনুযায়ী আর একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, এক অত্যাচারী অসুরের তাণ্ডবে দেবতারা সব অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। ওই অসুরের নাম ছিল শঙ্খাসুর। আবার, শঙ্খাসুরের স্ত্রী তুলসী দেবী ছিলেন ভগবান নারায়ণের একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু শঙ্খাসুরের অত্যাচারের শাস্তি দিতে নারায়ণ তাকে বধ করেন।

শঙ্খাসুরের পতিব্রতা, ধর্মপরায়ণ স্ত্রী তুলসী দেবী তখন নারায়ণের কাছে নিজের ও স্বামীর অমরত্বের প্রার্থণা করেন। নারায়ণ তুলসী দেবীর প্রার্থণায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর অর্থাৎ তুলসী দেবী ও শঙ্খাসুরের দেহাংশ (হাড়) থেকে শাঁখার সৃষ্টি করেন।

বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে এটির ব্যবহারের নির্দেশ দেন। মনে করা হয়, সেই থেকেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে শাঁখার প্রচলন হয়।