হিন্দু-বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মালম্বী মানুষের কাছে খুবই পবিত্র কেন স্বস্তিক চিহ্ন ?

হিন্দু-বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মালম্বী মানুষের কাছে খুবই পবিত্র কেন স্বস্তিক চিহ্ন ?

আজবাংলা স্বস্তিক একটি পবিত্র চিহ্ন। এই চিহ্ন কল্যাণের প্রতীক .যে কোনো মঙ্গল অনুষ্ঠানে অনেকে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকেন। এই চিহ্ন প্রগতির প্রতীক। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সুখ , শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক। হিন্দু , বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মালম্বী মানুষের কাছে খুবই পবিত্র এই স্বস্তিক চিহ্ন।

গবেষকরা বলছেন প্রায় এগারো হাজার বছরের ও পুরানো এই চিহ্ন। বেদে ও মিলেছে এর নক্সা। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে আর্য রক্তের অহংকারে গর্বিত এক নায়ক তন্ত্রের নায়ক হিটলারের দলীয় পতাকায় ছিল এই স্বস্তিক চিহ্ন।মঙ্গলে সেই অমঙ্গলের ছাপ। হিংসা, রক্ত আর বর্বরতার সাক্ষী হয়েছে স্বস্তিক। স্বস্তিক চিহ্ন দুই প্রকার - 1) ডান মুখী 2) বাম মুখী। ডান মুখী :- এই স্বস্তিক হিন্দুদের কাছে সূর্য বা প্রগতির প্রতীক। বাম মুখী :- এই স্বস্তিক রাত্রি কিংবা তন্ত্রের প্রতীক ।

জৈন তীর্থঙ্কর ও ভগবান গৌতম বুধের পাদ ফলকে আমরা এই পবিত্র চিহ্ন দেখতে পাই। তাৎপর্য :- 1) এই পবিত্র চিহ্ন কে আমরা বিষ্ণুর চারটি বাহুর সাথে কল্পনা করি। আবার অনেকে এই চিহ্নের চারটি বাহুকে ব্রহ্মার চারটি মুখের সাথে তুলনা করেন।যিনি সর্বদিক পর্যবেক্ষণ করছেন। 2) স্বস্তিকের কেন্দ্র বিন্দুকে শ্রী বিষ্ণুর নাভি কমল হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই স্বস্তিক বিষ্ণু প্রতীক স্বরূপ বিরাজ করছে। 3) ভগবান বিষ্ণু হলেন জগতের পালন কর্তা।

তাঁকে উদ্দেশ্য করে এই চিহ্ন এঁকে দিই। তখন সব কিছু বিষ্ণু তুল্য হয়ে যায়। 4) প্রধান প্রবেশ দরজার ভিতরের দিকে স্বস্তিক চিহ্ন গৃহে সুরক্ষার প্রতীক। হাতিসম মুখ যার সে হল অগ্রপূজ্য দেব গণেশ।স্বস্তিক চিহ্ন শ্রী গণেশের সাকার বিগ্রহের স্বরূপ।স্বস্তিকের চারটি ভূজা শ্রী বিষ্ণুর চার হাত।স্বস্তিক চার দিকে বা চার দিশায় শুভ সংকেত দেয়।স্বস্তিক ‘শ্রী’র ( লক্ষ্মী ) প্রতীক। ভগবান বিষ্ণু এবং ধন সম্পত্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবীর প্রতীক স্বস্তিক।পুজোপাঠ বা অন্যান্য শুভ কাজের সময়ে পুরোহিতরা শুভ প্রাপ্তির জন্য ‘স্বস্তিকাবন’ করেন।