জেনে নিন কিভাবে লক্ষ্মী পুজো করলে মা লক্ষ্মীর কৃপায় অভাব অনটন দূর হয়

জেনে নিন কিভাবে লক্ষ্মী পুজো করলে মা লক্ষ্মীর কৃপায় অভাব অনটন দূর হয়

আজবাংলা   প্রতিটি গৃহস্থেই মা লক্ষ্মীর কৃপার প্রয়োজন হয়ে থাকে অত্যন্ত ভাবেই ৷ মা লক্ষ্মীর কৃপায় সংসারের শ্রীবৃদ্ধিতে মঙ্গলময় হয়ে ওঠে সংসার ৷প্রচলিত একটি কথা আছে সংসার সুখের হয় রমনির গুণে ৷ অর্থাৎ একটি লক্ষ্মীমন্ত বউই সংসারের প্রকৃত উন্নতি সাধন করতে পারে ৷ সংসারে নিয়ে আসে স্থিতিশীলতা ৷ বৃহস্পতিবারকে আমরা সাধারণত লক্ষ্মী বার বলে থাকি।

আর এদিন সন্ধ্যায় সৌভাগ্য ও ধন সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রী লক্ষ্মী মায়ের পূজা।মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রতিদিনই গ্রাহ্যস্থ অসান্তির মূল কারণ অর্থনৈতিক দৈন্যতা ৷ টাকা পয়সার অভাবেই সংসার যেন কেমন একটা তেতো স্বাদের বড়ির মত হয়ে ওঠে ৷ পুরাণ বলছে লক্ষ্মীপুজো শুধুই ভাল করে করলে হবেনা ৷ পড়তে হবে মা লক্ষ্মীর পাঁচালিও ৷বর্তমানে গৃহস্থের সুবিধের জন্যই হোক বা পুরোহিতের স্বল্পতার জন্য, লক্ষ্মী পুজো (বারোমেসে পুজো বাদে) হয় সকাল থেকেই।

কিন্তু কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর প্রকৃষ্ট সময় প্রদোষকাল। অর্থাৎ সূর্যাস্ত থেকে দু ঘণ্টা পর্যন্ত যে সময়। যদিও প্রদোষ থেকে নিশীথ অবধি তিথি থাকলেও সেই প্রদোষেই পুজো বিহিত। কিন্তু আগেরদিন রাত্রি থেকে পরদিন প্রদোষ পর্যন্ত তিথি থাকলে পরদিন প্রদোষেই পুজো করা বিধেয়। আবার আগেরদিন রাতে তিথি থাকলেও যদি পরদিন প্রদোষে তিথি না থাকে তাহলে আগেরদিন প্রদোষেই পুজো করা কর্তব্য। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোতে দেখা যায় জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক আচার অনুষ্ঠান।

এখনও ঘরে ঘরে প্রতি বৃহস্পতিবারে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ করে তাঁর আরাধনা করা হয়। উপচারে ফল মিষ্টি ছাড়াও থাকে মোয়া, নাড়ু ইত্যাদি। লক্ষ্মীর আচার অনুষ্ঠানেও দেখা যায় নানা ধরনের তাৎপর্য। কোনও কোনও পরিবারে পুজোয় মোট ১৪টি পাত্রে উপচার রাখা হয়। কলাপাতায় টাকা, স্বর্ণ মুদ্রা, ধান, পান, কড়ি, হলুদ ও হরিতকী দিয়ে সাজানো হয় পুজো স্থানটিকে।

শ্রীশ্রী মা লক্ষ্মীর স্তোত্র:- * লক্ষ্মীস্তং সর্বদেবানাং যথাসম্ভব নিত্যশঃ। স্থিরাভাব তথা দেবী মম জন্মনি জন্মনি।। বন্দে বিষ্ণু প্রিয়াং দেবী দারিদ্র্য দুঃখনাশিনী। ক্ষীরোদ সম্ভবাং দেবীং বিষ্ণুবক্ষ বিলাসিনীঃ।। ** :> শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর ধ্যান মন্ত্র:- * ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃণিভির্যাম্য সৌম্যয়োঃ। পদ্মাসনাস্থাং ধায়েচ্চ শ্রীয়ং ত্রৈলোক্য মাতরং।। গৌরবর্ণাং স্বরূপাঞ্চ সর্বালঙ্কারভূষি তাম্। রৌক্নোপদ্মব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।। ** :> শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর স্তোত্রম্:- * ত্রৈলোক্য পূজিতে দেবী কমলে বিষ্ণুবল্লভে।

যথাস্তং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভবময়ি স্থিরা।। ঈশ্বরী কমলা লক্ষ্মীশ্চলা ভূতি হরিপ্রিয়া। পদ্মা পদ্মালয়া সম্পদ সৃষ্টি শ্রীপদ্মধারিণী।। দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেত। স্থিরা লক্ষ্মীর্ভবেৎ তস্য পুত্রদারারদিভিংসহ।। ** :> বিশেষ দ্রষ্টব্য:- * > অবশ্যই তিন বার পাঠ করতে হবে শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র, "নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে। যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চবাৎ।।" °° :> শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র:- ° ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে। সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোস্তুতে।।" **

যেকোনো পুজোয় হোক না কেনো সব পুজোতে পুজোর একটা রীতি নীতি বা আচার অনুষ্ঠান থাকে ভিন্ন ভিন্ন। আর থাকে ভিবিন্ন রকমের মন্ত্র ও নিয়ম। আমাদের সেই মন্ত্র সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে পালন অর্থাৎ উচ্চারণ করে বলাটাই হলো একটু জটিল কাজ। প্রত্যেক দেবদেবীর একটা নিজস্ব কিছু রীতি নীতি মন্ত্র ইত্যাদি থাকে। পুজোর সময় সঠিক ভাবে পুজো করাটাও একটা মহৎ কাজ।

মা লক্ষীর পুজোতে পুজোর মন্ত্র পড়ে সুষ্ঠ ভাবে করতে হয় বা করা উচিত। তেমনি সকল প্রকার দেবদেবীর পুজোও আমাদের বিধাতার রীতি নীতি মেনে চলাই হলো একমাত্র প্রধান কাজ। আমাদের হিন্দু শাস্ত্র মতে অনেক দেবদেবীর পুজো আমরা করে থাকি। আমরা প্রত্যেক দেবদেবীর পুজো করে থাকি ভগবানের আশীর্বাদ পাবার জন্য। প্রত্যেক ভগবানের অর্থাৎ প্রত্যেক দেবদেবীর আলাদা আলাদা আশীর্বাদের জন্যই আমরা পুজো করে থাকি। তাদের মধ্যে মা লক্ষী হলেন আমাদের ধন, সম্পদ, ঐশর্য, সুখ, শান্তি, ইত্যাদি আশীর্বাদের আশায়।