চাণক্য নীতি| জীবনে সাফল্য পেতে হলে মানতে হবে চাণক্যর যে সব পরামর্শ

চাণক্য নীতি| জীবনে সাফল্য পেতে হলে মানতে হবে চাণক্যর যে সব পরামর্শ

Chanakya Niti চাণক্যের মতে, মানুষের সর্বদা ভাল অভ্যাস অবলম্বন করা উচিত। ভাল অভ্যাস একজন ব্যক্তিকে দুর্দান্ত এবং সফল করে তোলে। ভাল অভ্যাস শিক্ষা এবং সংস্কৃতি মাধ্যমে বিকশিত হয়। চাণক্য এক বিরাট পণ্ডিত ছিলেন। চাণক্য অনেক বিষয়ে সচেতন ছিলেন। চাণক্য যত ভাল শিক্ষক ছিলেন তেমনি অর্থনীতিবিদও ছিলেন। এছাড়া চাণক্যও একজন দক্ষ কৌশলবিদ ছিলেন। চাণক্য সমাজ ও মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে প্রতিটি বিষয় অধ্যয়ন করেছিলেন। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চাণক্য নীতিকে তাই এক বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে।

 জীবনে সফল হওয়ার জন্য মহাপণ্ডিত চাণক্য যে সব পরামর্শ দিয়েছেন তা আজও প্রাসঙ্গিক। সফল হওয়ার জন্য তিনি আলস্য ত্যাগ করতে বলেছেন, মন রাখতে বলছেন ইতিবাচক এবং মিথ্যার আশ্রয় নিতে বারণ করছেন। একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

 আলস্য ত্যাগ করতে হবে

চাণক্যর মতে আলস্য একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং সাফল্য লাভের পথে মস্ত বড় বাধা। এই বাধা অতিক্রম করতে না পারলে, এই শত্রুকে পরাস্ত করতে না পারলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে মানুষের সমস্যা হয়। আলস্য যাকে পেয়ে বসেছে সে সমস্ত কাজে দেরি করে, সময়ের কাজ সময়ে করে উঠতে পারে না, ফলে যা পাওয়ার যোগ্য ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হতে থাকে দিনের পর দিন। তাই নিজের সফল হওয়ার পথ সুগম করতেই আলস্যকে চিরতরে বিদায় দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চাণক্য। খোঁজ নিলেই বোঝা যায়, যিনি জীবনে সফল তিনি কখনওই অলস নন।

 নেতিবাচক চিন্তা নয়

মানুষকে সফল হতে হলে নেতিবাচক চিন্তাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে বলে মনে করতেন চাণক্য। নেগেটিভ ভাবনা কারও মাথায় কিংবা মনে থাকলে তা কাজের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নেতিবাচক ভাবনা প্রশ্রয় দিতে থাকলে ইতিবাচক এনার্জি কাজ করতে বাধা পায়। যে কাজ সহজে হয়ে যেতে পারতো তা ধাক্কা খেতে থাকে। চাণক্য আরও এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, যদি কোনও ব্যক্তি অত্যন্ত প্রতিভাবানও হন, কিন্তু মন যদি নেতিবাচক ধারণার দ্বারা চালিত হতে থাকে, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রেও কর্মসাধনায় সিদ্ধিলাভ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ইতিবাচক হতেই হবে।

 মিথ্যার আশ্রয়  নয়

জীবনে সফল হওয়ার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে বারণ করছেন চাণক্য। মিথ্যা কথা বা আচরণ একটি অন্যায় কাজ। এমন একটি অন্যায়ের মাধ্যমে সাফল্য আসতে পারে না বলে মনে করেন চাণক্য। তাঁর ব্যাখ্যা, জীবনে এক লাফে সফল হয়ে যাওয়ার জন্য অনেকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে চান। এক-আধবার সাফল্য এসেও যায়। কিন্তু সেই সাফল্য চিরস্থায়ী হয় না। কারণ মিথ্যা যখন ধরা পড়ে যায় তখন সমস্ত সাফল্যের সুনামের উপর বদনামের কালিমা সেঁটে যায়। তা থেকে আর বেরিয়ে আসা যায় না। তাই প্রয়োজনে সাফল্যের জন্য একটু বেশি সময় কিংবা পরিশ্রম লাগলেও, মিথ্যার পথ এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিচ্ছেন চাণক্য।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

যতক্ষণ আজকের কাজটি আগামীকাল স্থগিত করার প্রবণতা রয়েছে, ততক্ষণ সাফল্য অর্জন করা যায় না। যারা সাফল্য অর্জন করেন, তারা সুশৃঙ্খল জীবনধারা গ্রহণ করেন। কারণ জীবনযাত্রা পরিবর্তন না করে সাফল্য অর্জন করা কঠিন। অতএব, সবার আগে, জীবন যাত্রার পরিবর্তন করা উচিত। আজকের কাজটি আগামীকাল করবো এই মনোভাব এড়ানো উচিত। এর জন্য সময়ের গুরুত্ব বুঝতে হবে।

লক্ষ্য নির্ধারণ

সাফল্য অর্জনের জন্য দৃঢ় কৌশল তৈরির প্রয়োজন, না হলে সাফল্য পেতে অসুবিধার পড়তে হয়। সাফল্য অর্জনের জন্য একজন ব্যক্তির প্রথম কাজ লক্ষ্য নির্ধারণ করা। এর পরে, ব্যক্তির একটি কৌশল তৈরি করা উচিত এবং সেই মত কাজ করা উচিত।

সময় পরিচালনা

যে ব্যক্তি সময় মতো তার সমস্ত কাজ সমাপ্ত করে, সাফল্য তার থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সময় পরিচালনার কথা মাথায় রাখুন। সময় মতো পরিচালনার জ্ঞান সময় মতো কাজ শেষ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভুল থেকে শিক্ষা

যারা তাদের ভুলগুলি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং এগুলি কাটিয়ে ওঠে তারা খুব শীঘ্রই সাফল্য অর্জন করে। সকলের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। সাফল্য অর্জনে অনেক বাধা রয়েছে। বাধা এলে ব্যক্তির সাহস হারানো উচিত নয়। ধৈর্য ও সাহস ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা উচিত ,সাফল্য জীবনে ধরা দেবেই।

শ্রম

সফল হতে গেলে সর্বদা কঠোর পরিশ্রমের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। শ্রমের কোনও বিকল্প নেই। যতক্ষণ না ব্যক্তির কাজ সফল হচ্ছে, ততক্ষণ সেই ব্যক্তির কঠোর পরিশ্রম করা উচিত।