যেন হুবহু সিনেমা, ৪০ বছরের পুরনো ডিএনএ দিয়ে জন্ম নিল এই প্রাণী

যেন হুবহু সিনেমা, ৪০ বছরের পুরনো ডিএনএ দিয়ে জন্ম নিল এই প্রাণী

আজ বাংলা: বহু দশক আগে মুক্তিপ্রাপ্ত জুরাসিক পার্ক দেখেছেন নিশ্চই। এই সিনেমার গল্প, বিলুপ্ত প্রজাতি ডাইনোসোরের পৃথিবীতে আবার ফিরে আসা নিয়ে। এই হলিউড সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কেমন করে বৈজ্ঞানিকরা ধরাধামে ডাইনো-প্রজাতিকে ডিএনএ ক্লোনিং-এর মাধ্যমে আবার ফিরিয়ে আনলেন। 

যদিও সিনেমাটি সুপার-ডুপার হিট করলেও, বিজ্ঞানসম্মতভাবে তা কখনও বাস্তবে সম্ভব নয়। তবে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের যে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার উদাহরণ কিন্তু বাস্তবে কম নয়। সূত্রের খবর, ঘোড়ার বিলুপ্তপ্রায় এক প্রজাতি 'Przewalski''-র জন্ম ক্লোনিং-এর মাধ্যমে সেই চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধানে করানো হয়েছে। 


৪ সেপ্টেম্বর চিড়িয়াখানার প্রেস রিলিজ অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ঘোড়ার বাচ্চাটির জন্ম হয় গত ৬ আগস্ট। ঘোড়াটির ক্লোনিং করা হয়, টেক্সাস ভেটেরিনারির তত্ত্বাবধানে, একটি সারোগেট মা ঘোড়ার গর্ভে। Przewalski ঘোড়া হল পৃথিবীর শেষ বন্য ঘোড়া প্রজাতি। 


সূত্রের খবর, এই প্রজাতিকে মূলত এশিয়া ও ইউরোপে দেখতে পাওয়া যেত। মানুষের দিনের পর দিন প্রাণীদের উপর আগ্রাসীমূলক আচরণ এবং নিজেদের বসবাসের জন্য জঙ্গল কেটে বাসস্থান বানানোর কারণে এই বন্য প্রজাতি নিজেদের জায়গা হারিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

ঘোড়াটির এই জন্ম, বিপন্নপ্রায় জীবজন্তু প্ৰজাতিদের জিনগতভাবে রক্ষা করার গবেষণার জায়গাটি প্রশস্ত করে দিয়েছে, এমনটাই জানান, বন্যপ্রাণ নিয়ে কাজ করা এক সংস্থা 'রিভাইব এন্ড রিস্টোর'-এর একজিকিউটিভ ডিরেক্টর রায়ান ফেলান।

ক্লোনিং-এ জন্মানো ঘোড়ার বাচ্চাটির নাম রাখা হয়েছে কার্ট। সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাচ্চা ঘোড়াটিকে আর কয়েকদিন পর, সান দিয়েগো সাফারি পার্কে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, ঘোড়াটি বড় হওয়ার পর বংশবিস্তারের কাজে সক্ষম হবে।

এই বিলুপ্তপ্রায় ঘোড়াগুলিকে অবশ্য চিড়িয়াখানাতেই দেখতে পাওয়া যায়। এরজন্যই কার্টকে ক্লোন করে জন্ম দেওয়া সম্ভব হয়েছে।